logo
   প্রচ্ছদ  -   সম্পাদকীয়

শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে নিজের কাছেই হেরে যেতাম’
Posted on Mar 10, 2017 02:20:06 PM.

শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে নিজের কাছেই হেরে যেতাম’

পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ- দুর্নীতির অভিযোগ নিত্য দিনের। অভিযোগ রয়েছে স্বজনপ্রীতি ও সুবিধা ভোগের । জায়গা দখল থেকে শুরু করে মাছের ঘের দখল-এ সব অভিযোগ শত বছরের পুরোনো। কনেস্টেবল থেকে শুরু করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার (এসপি)- সবার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ । সে অভিযোগ থেকে বাদ যান না পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা (আইজি) ইন্সপেক্টর অব জেনারেলও ।
তবে মাঝেমাঝে সব ছাড়িয়ে কোনো কোনো পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠেন সবার মধ্যে একক-অনন্য। হয়ে ওঠেন মানবিকতা আর মহানুভবতার অন্যরকম এক দৃষ্টান্ত ।

তেমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর। গত বছর (২০১৬) ডিসেম্বর মাসে আকবর শাহ থানাতে ওসি হিসেবে যোগদান করেন তিনি । এর আগে নগরীর পতেঙ্গা থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্মকর্তা । নগরীর কর্ণেলহাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ড্রেন থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় এক নবজাতকে উদ্ধার করে জীবন বাঁচিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি।

শুধু তাই নয় কর্তব্যের বাইরে গিয়ে নিজ উদ্যোগে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোসহ ঐ নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা করে চলেছেন সিএমপির এই পুলিশ কর্মকর্তা । খোঁজ খবর নিচ্ছেন দিন-রাত সব সময়।
গত সোমবার  (২০ জানুয়ারি) রাতে কর্ণেলহাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ড্রেনে এক নবজাতককে মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন যুবক । পরে আকবর শাহ থানার ওসিকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন তাঁরা।

ওসি আলমগীর তাৎক্ষনিকভাবে টহলরত পুলিশকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন । নিজেও ছুটে আসেন সেখানে। প্রথমে একে খান এলাকার আল আমিন হাসপাতাল পরে আগ্রাবাদস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ইনকিউবেটর খালি না থাকার কারণে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নাম্বার ওয়ার্ডে । ঐ রাতে নিজে উপস্থিত থেকে শিশুটিকে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (ইনকিউবেটর) এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদ্য প্রসব হওয়া ফুটফুটে একটি শিশু ড্রেনের মধ্যে মৃত্যুর সাথে লড়ছিলো। শিশুটি কোথায় থেকে এসেছে, কে ফেলেছে, কেনো ফেলেছে-ততসব ভাবার সময় তখন ছিলো না । তখন মনে হয়েছিলো এই শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে হয়তো আমি নিজের কাছেই হেরে যাবো-মরে যাবো।

তিনি বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নিজের মুত্যু যন্ত্রণাকে খুব কাছে থেকে উপলদ্ধি করেছি আমি । উপলদ্ধি করেছি একজন সন্তান যখন মৃত্যু পথযাত্রী হয় ঠিক তখন একজন বাবার বুকে আঘাত করা ত্রিসুলটা কতটা বিষাক্ত আর যন্ত্রণার হয়।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আকবর শাহ থানায় বসে কথা হয় ওসি আলমগীরের সঙ্গে। পাথরে মোড়ানো বুকের ভেতর থেকে গুমড়ে উঠে কান্নার শব্দ । হয়তো বুকের ভেতরটা শক্ত বলে আছড়ে পড়েনা চোখের জল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর জন্য লাইফ কেয়ার সেন্ট্রারে নাম লিখান ১৭ বছর বয়সী লিপি বেগম নামে এক নারী। সে সময় ঐ নারীর সাথে দুইজন পুরুষ ও আরও একজন মহিলা ছিলেন।

কম্পিউটারে নাম রেজিস্ট্রেশনের পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য তাকে লবি তে অপেক্ষা করতে বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত আল্ট্রাসনোগ্রাফির এসিস্ট্যান্ট ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোনো এক ফাকে লিপি বেগম প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে এ প্রবেশ করে। এবং টয়লেটের ভেতরেই বাচ্চা প্রসব করে সেটিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে ফেলে দেন।

লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সূত্রে জানা যায়, অনেক ডাকা ডাকির পর টয়লেট থেকে বেড়িয়ে লিপি কেগম জানান, তার রক্তপাত হচ্ছে। তাড়াতাড়ি তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষার পর লিপি আক্তারের পেটে কোনো বাচ্চা নেই বলে রিপোর্ট দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম কে পাশা।

ওসি আলমগীর জানান রাত নয় টার দিকে টহলরত পুলিশ লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের ড্রেন থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করার সময় কোনো এক ফাকে শিশুটির গর্ভধারিণীসহ পালিয়ে যায় সঙ্গে থাকা সঙ্গীরাও।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আলমগীর বলেন, আমাদের প্রথম কাজ ছিলো শিশুটিকে বাঁচানো। তাই আমরা করেছি। সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে শিশুটি এখন ভালো আছে।

তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টয়লেটে শিশু প্রসব করা এবং ভেন্টিলেটর দিয়ে শিশুটিকে বাইরে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হলেও এর কিছুই জানেন না লাইফ কেয়ার ডায়াগনোস্টিক কাট্টলী শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল মজিদ। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মুঠোফোনে তিনি জানান, আমার এইখানে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার পিপিএম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ছাড়াও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পুলিশ অনেক কাজ করে এটি তারই একটি উদাহরণ।

আকবর শাহ থানার ওসি ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশের অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। জনগণের পাশে থাকতে হবে।




  এই বিভাগ থেকে আরও সংবাদ

   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগকে ০১টি রেকার স্পন্সর করলো সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড
   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
   আন্তর্জাতিক কারাতে প্রতিযোগিতায় ৩য় বারের মত স্বর্ণপদক পেল সিএমপির লতা পারভীন।
   ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশুর হাট সংক্রান্তে হাট ইজারাদারগণের সাথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর মতবিনিময় সভা এবং নিরাপত্তা পরামর্শ
   আদেশ - সিএমপি কমিশনার
   পবিত্র ঈদ-উল-আয্হা/১৭ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরামর্শ
   পুরস্কার পেলেন সেই চট্টগ্রামের ট্রাফিক কনস্টেবল
   সিএমপির ঊর্ধ্বতন পদে রদবদল
   সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
   আদেশ- সিএমপি কমিশনার
   ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি রোধে যা করণীয়
   রমজানে চট্টগ্রামে যানজট নিরসনে ৫৮টি স্পটে বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ
   সিএমপির কমিউনিটি পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ এর সমাপনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন।
   সিএমপির ট্রাফিক সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
   আবারো সেই কনস্টেবল শের আলী
   আজ হতে কমিউনিটি পুলিশিং সপ্তাহ-২০১৭ শুরু
   পবিত্র শব-ই-বরাত এর রাতে পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: সিএমপি।
   সিএমপির ০২ নারী পুলিশ সদস্যের বাংলাদেশ মহিলা পুলিশ এওয়ার্ড ২০১৭ অর্জন
   “শুভ নববর্ষ ১৪২৪” বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালায় নগরবাসীর প্রতি সিএমপি’র নির্দেশনাবলীঃ
   প্রেস বিজ্ঞপ্তি
   বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টবল পদে ১০ হাজার নিয়োগ
   সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক গণের রদবদল
   সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার, নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক ও শহর ও যানবাহন পুলিশ পরিদর্শকগণের রদবদল।
   সিএমপি গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা কারী ইসলামী সমাজ সংগঠনের ২৪ সদস্য গ্রেফতার।
   রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেলেন সিএমপির কনস্টবল শের আলী
   চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী ও জেলা ব্র্যান্ডিং মেলায় শ্রেষ্ট হলেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ স্টল।
   পুলিশের ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জনাব মো: রুহুল আমীন, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম।
   পুলিশের ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মাননীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোহাম্মদ শফিউল আলম
   সিএমপির অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনারগণ ও সহকারী পুলিশ কমিশনারগণের রদবদল


  পুরনো সংখ্যা