logo
   প্রচ্ছদ  -   সম্পাদকীয়

মুখোমুখি অবস্থানে জোট-মহাজোট নির্বাচন নিয়ে শংকা - নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল
Posted on Oct 22, 2013 03:41:00 AM.


গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন একটি রুটিন কর্মসূচি। নির্বাচনে জনগণ ব্যালেটের মাধ্যমে সরকারের ভাল-মন্দের জবাব দেবেনএটাই নিয়ম হলেও বাংলাদেশের শিশু গণতন্ত্র এখন মুমূর্ষু! গণতান্ত্রিক দেশে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তারপরও বাংলাদেশের নির্বাচন বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে! আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চিয়তা। এ কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে শংকিত দেশ-বিদেশের জনগণ। বাংলাদেশের শিশু গণতন্ত্রকে  এতদিন ওরস্যালাইন দিয়ে টিকিয়ে রাখা গেলেও বর্তমান সময়ের সহিংস রাজনীতির ভয়াল থাবায় এ দেশের গণতন্ত্রকে এখন নির্বাচন ক্লিনিকের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা গণতন্ত্রের দ্রত আরোগ্য লাভে নানা প্রেসক্রিপশন দিলেও রুগ্ন গণতন্ত্রের উন্নয়নে সরকারের তরফ থেকে আশু পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে দেশের সংবাদপত্রগুলোতে লেখক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবিরা নানা মন্তব্য বিশ্লেষণ রূপরেখা উপস্থাপন করছেন! দেশের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা মোহের কারণে নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে এ অনিশ্চিয়তার জন্য সরকারের ক্ষতিই হবে বেশি! ২৫ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে আতংক বিরাজ করছে। সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
গত ৪ দিনে দেশের রাজনীতিতে ৪ রকম পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সর্বদলীয় সরকারের আহানবাণী শোনালেও কয় সদস্যের অন্তবর্তী সরকার গঠন করা হবে এবং বিএনপি আওয়ামী লীগের অন্তবর্তী সরকারের মন্ত্রী কয়জন হবেন তা স্পষ্ট করেনি! এছাড়া নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রধান কে হবেন এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না বললেও সংবাদ সম্মেলনের পর পরই টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে সরকারের উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলে দিয়েছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সর্বদলীয় সরকারের প্রধান হবেন!
শেখ হাসিনা প্রধান হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের একদিন পর রাজধানী ঢাকায় সভা সমাবেশ, মানববন্ধন, মিছিলসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে সরকার সমালোচিত হয়েছে।
এছাড়া সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করে লাভও হয়নি। কারণ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত প্রশাসন অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এই সমাবেশে প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। সরকার বিরোধী আন্দোলনে কেউ যদি পাশে নাও থাকেন খালেদা জিয়া একাই সরকার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে শেখ হাসিনাও নির্বাচনকালীন অন্তর্বতী সরকারের প্রদানের পদটি ছাড়তে নারাজ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে হাতে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৫ বছর পর নৈশ্যভোজে দাওয়াত দিলেন এরশাদকে। বেচারা এরশাদ সম্মান রক্ষার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করলেও একদিন পরেই এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সৈয়দ আশরাফ যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এরশাদের বৈঠকের পর জাতীয় পার্টি মহাসচিবকে পাশে রেখে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথেই আছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে জাতীয় পার্টি একক নির্বাচন করবে! এই নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। কারণ জাতীয় পার্টিই কি তাহলে সরকারের বানানো পকেট বিরোধী দল হতে যাচ্ছে! সমালোচনার ঝড় ওঠার আগে সাবেক এরশাদ নিজেই বলেছেন, সব দল অংশগ্রহণ না করলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মহাজোটের বড় শরীক হলেও পাওয়া না পাওয়ার বেদনায় জর্জরিত এরশাদ গত কয়েক মাস থেকে সরকারের কড়া সমলোচক ছিলেন। একাধিকবার মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিলেও মামলার ভয়ে এতদিন তিনি মহাজোট ছাড়েন নি। শেষমেষ ২৫ অক্টোবরের আগেই মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেন এরশাদ। নৈশভোজনে দাওয়াত দিয়েও এরশাদের মান অভিমান ভাঙাতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী।
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বর্তমান মহাজোট সরকারের অনেক অবদান থাকলেও সরকারের বিভিন্ন বিভিন্ন পদক্ষেপে দেশের জনগণ ক্ষেপে উঠেছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের উন্নয়ন জনগণের জন্য মরার উপর খারার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধির কারণে জনগণ অতিষ্ঠ। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের সেবাখাত গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছে বার বার। বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তায় সরকারের শেষ মুহূর্তে প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ কর্মকর্তা আমলারা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাঠাচ্ছেন। ২৪ অক্টোবর পিছিয়ে ডেটলাইন এখন ২৫ অক্টোবর। তাই সরকারের ঘনিষ্ঠ সচিবরা স্বস্তিতে নেই! এদিকে সরকারের শেষ সময়ে এসে সচিবালয়ে বিএনপিপন্থী আমলারা তৎপর হয়ে উঠেছেন। বর্তমান সরকারের সুবিধা বঞ্চিত আমলারা বিএনপিপন্থী আমলাদের সাথে যোগ দিচ্ছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে। সরকারের শেষ মুহর্তে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে সচিবদের দৌড়ঝাপ সরকার পরিবর্তনের আলামত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কী হবে ২৫ অক্টোবর পরবর্তী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি? এই নিয়ে জনগণের আগ্রহ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠারও কমতি নেই। এদিকে ২১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া প্রস্তাব করেন বিগত দুটি নির্বাচনে ত্বত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে ৫ জন করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী পরিষদ ও ১ জন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে প্রধান করে নির্বাচনকালীন অন্তবর্তী সরকার গঠনের আহান জানান। দেশের মানুষ অবাধ দলনিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন সরকারের মান বিচারের অন্যতম মাধ্যম হলেও বাংলাদেশের নির্বাচন এখনও পুরোপুরি জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষার নিয়ামক হয়ে উঠেনি।
শিক্ষিত সমাজ সচেতন নাগরিকের চেয়ে অশিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাদের কাছে নির্বাচন মানেই উৎসব। পাড়ায় পাড়ায় মিছিল সমাবেশ আর চায়ের দোকানের আড্ডায় কে ভাল কে খারাপ তার চেয়ে কার কত টাকা, কে কত বেশি টাকা দেবেন সেটাই বড়। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে এ কারণে উৎসবের নির্বাচন এখন হতাশার কোমর পানিতে নিমজ্জিত। বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। তাই শান্তি প্রিয় মানুষের আগ্রহের প্রতি সম্মান জানিয়ে সহিংস রাজনীতির পথ পরিহার করে গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক : মানবাধিকার কর্মী, কলামিস্ট




  এই বিভাগ থেকে আরও সংবাদ

   চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার কর্তৃক বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট-২০১৭ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্দেশনা সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং
   আদেশ
   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা রক্ষা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যাত্রী সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে চালক ও হেলপারের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
   আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম এর ৩৭তম বার্ষিক সভা সম্পন্ন
   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগকে ০১টি রেকার স্পন্সর করলো সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড
   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
   আন্তর্জাতিক কারাতে প্রতিযোগিতায় ৩য় বারের মত স্বর্ণপদক পেল সিএমপির লতা পারভীন।
   ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশুর হাট সংক্রান্তে হাট ইজারাদারগণের সাথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর মতবিনিময় সভা এবং নিরাপত্তা পরামর্শ
   আদেশ - সিএমপি কমিশনার
   পবিত্র ঈদ-উল-আয্হা/১৭ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরামর্শ
   পুরস্কার পেলেন সেই চট্টগ্রামের ট্রাফিক কনস্টেবল
   সিএমপির ঊর্ধ্বতন পদে রদবদল
   সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
   আদেশ- সিএমপি কমিশনার
   ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি রোধে যা করণীয়
   রমজানে চট্টগ্রামে যানজট নিরসনে ৫৮টি স্পটে বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ
   সিএমপির কমিউনিটি পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ এর সমাপনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন।
   সিএমপির ট্রাফিক সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
   আবারো সেই কনস্টেবল শের আলী
   আজ হতে কমিউনিটি পুলিশিং সপ্তাহ-২০১৭ শুরু
   পবিত্র শব-ই-বরাত এর রাতে পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: সিএমপি।
   সিএমপির ০২ নারী পুলিশ সদস্যের বাংলাদেশ মহিলা পুলিশ এওয়ার্ড ২০১৭ অর্জন
   “শুভ নববর্ষ ১৪২৪” বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালায় নগরবাসীর প্রতি সিএমপি’র নির্দেশনাবলীঃ
   প্রেস বিজ্ঞপ্তি
   শিশুটিকে বাঁচাতে না পাড়লে নিজের কাছেই হেরে যেতাম’
   বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টবল পদে ১০ হাজার নিয়োগ
   সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক গণের রদবদল
   সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার, নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক ও শহর ও যানবাহন পুলিশ পরিদর্শকগণের রদবদল।
   সিএমপি গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা কারী ইসলামী সমাজ সংগঠনের ২৪ সদস্য গ্রেফতার।


  পুরনো সংখ্যা